মোলার প্রেগন্যান্সি: কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকার . মোলার প্রেগন্যান্সির চিকিৎসা.

0


# মোলার প্রেগন্যান্সি: কারণ, উপসর্গ ও প্রতিকার

মোলার প্রেগন্যান্সি বা **Hydatidiform Mole** হলো একটি বিরল ধরনের গর্ভাবস্থা, যেখানে ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হয়ে জরায়ুর ভেতরে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধি শুরু হয়। একে সাধারণত “টিউমার সদৃশ গর্ভাবস্থা” বলা হয়। যদিও এটি ক্যানসার নয়, তবে চিকিৎসা না করালে জটিল আকার ধারণ করতে পারে।


## মোলার প্রেগন্যান্সির ধরন

1. **Complete Mole** – এখানে কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না, শুধু অস্বাভাবিক প্লাসেন্টার কোষ জন্মায়।
2. **Partial Mole** – এখানে ভ্রূণ আংশিকভাবে গঠিত হলেও তা বাঁচতে পারে না।

---

## কারণ

মোলার প্রেগন্যান্সি মূলত **ক্রোমোজোমের জেনেটিক সমস্যা** থেকে ঘটে। এর মধ্যে –

* নিষেকের সময় অতিরিক্ত পিতার ক্রোমোজোম যুক্ত হওয়া
* অপরিপক্ব ডিম্বাণুতে অস্বাভাবিক স্পার্ম প্রবেশ
* বয়সজনিত ঝুঁকি (বিশেষ করে ২০ বছরের কম বা ৩৫ বছরের বেশি নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়)

---

## উপসর্গ

মোলার প্রেগন্যান্সির লক্ষণ সাধারণ গর্ভাবস্থার মতো হলেও কিছু বিশেষ উপসর্গ থাকে, যেমন:

* অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ (প্রথম তিন মাসে)
* তীব্র বমি বমি ভাব ও বমি
* জরায়ু স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত বড় হয়ে যাওয়া
* গাঢ় বাদামী বা আঙুরের মতো টিস্যু বের হওয়া
* গর্ভে শিশুর নড়াচড়া বা হার্টবিট না পাওয়া

---

## জটিলতা

চিকিৎসা না করলে মোলার প্রেগন্যান্সি থেকে হতে পারে –

* জরায়ুতে সংক্রমণ
* অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
* **Gestational Trophoblastic Neoplasia (GTN)** নামে টিউমার তৈরি হওয়া
* ভবিষ্যতে গর্ভধারণে সমস্যা

---

## নির্ণয়

ডাক্তার সাধারণত নিম্নোক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে মোলার প্রেগন্যান্সি নির্ণয় করেন –

* **আল্ট্রাসনোগ্রাম (USG)**
* **বিটা HCG টেস্ট** (হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিক বেশি থাকে)

---

## চিকিৎসা

* জরায়ু থেকে অস্বাভাবিক টিস্যু **সাকশন কিউরেটাজ** বা সার্জারির মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।
* প্রয়োজনে **কেমোথেরাপি** দেওয়া হয় (GTN হলে)।
* নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও ফলো-আপ জরুরি।

---

## প্রতিরোধ

মোলার প্রেগন্যান্সি প্রতিরোধের সুনির্দিষ্ট উপায় নেই। তবে –

* বিয়ের আগে বা গর্ভধারণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ভালো।
* পূর্বে মোলার প্রেগন্যান্সি হয়ে থাকলে, পরবর্তীবার গর্ভধারণের আগে ডাক্তারি পরামর্শ নেওয়া উচিত।

---

## উপসংহার

মোলার প্রেগন্যান্সি যদিও ভয়ের বিষয় মনে হয়, তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য। তাই গর্ভাবস্থায় কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

---


Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default