শাখা ডাকঘরের বেতন ভাতা বৃদ্ধি, E.D.A, E.D.D.A ও E.D.M.C কর্মচারীদের অবিচার: মাসে মাত্র ৪০০০ টাকা!

0


# 📢 বাংলাদেশ শাখা ডাকঘরের কর্মচারীদের বেতন ভাতার সঙ্গে অবিচার: ন্যায্য প্রাপ্যের দাবিতে প্রতিবাদ

 
শাখা ডাকঘরের বেতন ভাতা বৃদ্ধি,

বাংলাদেশ ডাকঘর দেশের অন্যতম প্রাচীন প্রতিষ্ঠান। গ্রাম-গঞ্জ থেকে শহর, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সীমান্ত – সর্বত্র ডাক সেবার মাধ্যমে মানুষ চিঠি, টাকা ও জরুরি বার্তা আদান-প্রদান করে আসছে। আর এই ডাক সেবার মেরুদণ্ড হলো **শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা**।

কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, যারা প্রতিদিন গ্রামীণ জনগণের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের আজও অমানবিকভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

---

## ⚠️ কারা এই কর্মচারী?

বাংলাদেশের হাজার হাজার শাখা ডাকঘরে তিন ধরনের পদে কর্মরত রয়েছেন –

* **E.D.A (Extra Departmental Agent)**
* **E.D.D.A (Extra Departmental Delivery Agent)**
* **E.D.M.C (Extra Departmental Mail Carrier)**

তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, কিন্তু তাদের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত অবহেলাপূর্ণ।

---

## 💰 মাত্র ৪,০০০ টাকা মাসিক ভাতা!
 

আজ ভারাকান্ত হৃদয় নিয়ে বলতে হয়। আজকের বাজার পরিস্থিতিতে যেখানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, সেখানে এই কর্মচারীরা মাসে মাত্র **৪,০০০ টাকা ভাতা** পান।
👉 এটি মাসে গড়ে দৈনিক মাত্র ১৩০ টাকা!

👉নেই কোন উতসব ভাতা, নেই কোন বোনস, নেই কোন টিএ ডিএ, নেই কোন গাড়ী, জ্বালানী খরচ।
👉 যা দিয়ে একটি পরিবার চালানো তো দূরের কথা, নিজের মৌলিক চাহিদাই মেটানো সম্ভব নয়।👉
👉আজ বাবা-মার ওষুধ কেনা,ছেলে- মেয়ের লেখা-পড়া খরচ, সংসারের খরচ, সেখানে কিভাবে এমন ভাবে রাষ্ট্র অবিচার করতে পারে এই সকল কর্মচারীর সাথে।
এ যেন এক ধরনের **রাষ্ট্রীয় বৈষম্য**।

---

## 📉 দীর্ঘদিনের অবিচার

দশকের পর দশক ধরে এই কর্মচারীরা কাজ করে যাচ্ছেন, কিন্তু

* তাদের **কোনও স্থায়ী চাকরির স্বীকৃতি নেই**
* নেই **বেতন স্কেল বা গ্রেড**
* নেই **পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা**

অন্যদিকে একই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ন্যায্য বেতন, ভাতা ও চাকরির নিরাপত্তা ভোগ করছেন। হা যদি ডিপার্মেন্টরে সবাই এমন হতো তাহলে ঠিক ছিল। কিন্ত একটু উপরে তাকালেই তাদের গ্রেড উন্নত মানের। তারাও এদের ভালো চোখে দেখে না। বলে আপনাদের কাজ নেই, সরকারের লস। কিন্ত তাদেরও ভালো কাজ নেই, তারাও কাজের অভিনয় করে যাচ্ছে। ধরুন  একজন- ই,ডি,ডি,এ. যদি সপ্তাহে ২১ টা চিঠিও বিলি করে তবে তার অনন্ত ‍১০টা গ্রামে ঘুরতে হবে, আর তার খরচ কত হবে আপনারাই অবশ্যই ভালো জানেন। উধ্বতন কর্মকর্তা সবসময় একটা কথাই সবসময় বলে যে কাজ নাই, বলি কাজ কার আছে শুনি। এখন কাজ নেই অতীতে কাজ করেছি, ভবিষ্যতে কাজ করতে হতে পারে। সরকার  ই,ডি কর্মচারিদের জন্য কি করলেন বলে যাবেন। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারকে অনুনয় বিনয় করেও কোন দাবি মানছে না। একটা ন্যায্য দাবি সরকার মানছে না।


## ✊ কেন প্রতিবাদ জরুরি?
 
একজন কর্মচারী ২০-২৫ বছর কাজ করে অবসরে গেলেও তার হাতে থাকে না কোনও স্থায়ী সুবিধা।
এটা শুধু অবিচার নয়, এটা সরাসরি **মানবাধিকার লঙ্ঘন**।

যারা প্রতিদিন ডাক সেবার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তারা কি রাষ্ট্রের অংশ নন?
তাদের শ্রম, তাদের অবদান – এগুলোর কি কোনও মূল্য নেই?

---

## 📢 আমাদের দাবি

1. **ন্যূনতম সরকারি বেতন স্কেল অনুসারে মাসিক বেতন** প্রদান করতে হবে।
2. **স্থায়ী চাকরির স্বীকৃতি** দিতে হবে।
3. **পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও চিকিৎসা সুবিধা** চালু করতে হবে।
4. **বৈষম্য দূর করে সমান সুযোগ** নিশ্চিত করতে হবে।

---

## 📝 উপসংহার

বাংলাদেশ শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা কেবল কর্মী নন – তারা গ্রামীণ জনজীবনের সেবক, রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রদূত।
তাদের **৪,০০০ টাকা ভাতা** শুধু একপ্রকার তামাশা নয়, বরং একটি **রাষ্ট্রীয় অবিচারের প্রতিচ্ছবি**।

👉 এখনই সময় সরকারকে এই বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে কর্মচারীদের **ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার।**

---

বিদেশী ডেলিভারী এজেন্ট।
Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default